Culture

ধর্মান্ধতা ও রাষ্ট্র: কোন পথে বাংলাদেশ?

Feb 04, 2026
Cover
বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান সেই পরিচয়কে গভীর সংকটে ফেলেছে। এই উগ্রবাদ শুধু সামাজিক সহনশীলতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দেশের অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। মানুষ ভুল করে—এটাই মানবজীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, বেকারত্ব কিংবা পারিবারিক সংকট মানুষকে কখনো কখনো অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় এসব অপরাধের বিচার হয় আইন ও মানবিক বিবেচনার ভিত্তিতে। অপরাধের মাত্রা, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেই শাস্তি নির্ধারণ করা হয়। এই বিচারব্যবস্থাই সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত উপায়। কিন্তু আজ বাংলাদেশে যে ধরনের ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তা এই ন্যায়বিচারের ধারণাকেই অস্বীকার করে। ইসলামি উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী স্টেকহোল্ডার হয়ে উঠতে চাচ্ছে এবং প্রকাশ্যেই রাষ্ট্রকে শরিয়াহভিত্তিক আইন দিয়ে পরিচালনার দাবি তুলছে। এই দাবি শুধু উদ্বেগজনক নয়, ভয়ংকরও। ভাবুন, ক্ষুধার তাড়নায় কিংবা পরিবারের খাবার জোগাড় করতে গিয়ে কেউ চুরি করলে শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যায় তার হাত কেটে ফেলা হবে—এমন এক শাস্তি, যেখানে অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট, দারিদ্র্য বা রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কোনো মূল্য নেই। আবার প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী ও একজন পুরুষ পারস্পরিক সম্মতিতে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ালে তার শাস্তি হতে পারে প্রকাশ্য পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু। এই আইনগুলো কেবল অমানবিকই নয়, বর্বরতার প্রতীক। এ ধরনের অসংখ্য বিধান রয়েছে, যা সরাসরি মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সভ্যতার মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে যায়। অথচ উগ্রবাদী ব্যাখ্যায় এসব প্রশ্নের কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের কাছে মানবিকতা নয়, কঠোরতা ও ভয় প্রদর্শনই মুখ্য। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের কথা বলে। সেই পথ থেকে সরে গিয়ে যদি আমরা ধর্মীয় উগ্রবাদের হাতে রাষ্ট্রকে ছেড়ে দিই, তাহলে তা হবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এখনই সময় স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও যুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে শরিয়াহভিত্তিক বর্বর আইন রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ করতে হবে। নীরবতা নয়, সচেতন প্রতিবাদই পারে বাংলাদেশকে এই অন্ধকার ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করতে।

Thoughts & Comments

Leave a comment

No comments yet.